
৩০ এপ্রিল, ২০২৬
ভারতের দীর্ঘকালীন স্বপ্নের প্রজেক্ট, চাবাহার বন্দর, এখন এক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। গত রোববার মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিশেষ ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সেই মেয়াদ বাড়ানোর কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। ফলে, ভারতের এই উচ্চাভিলাষী আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্পটি কার্যত থমকে গেছে।
ভারতের জন্য চাবাহার ছিল একটি কৌশলগত তুরুপের তাস। আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য পথ গড়তে এই বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পাকিস্তানের স্থলপথ এড়িয়ে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের জন্য ১২ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে নয়াদিল্লি। এছাড়া, চীনের অর্থায়নে নির্মিত পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দরের বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবেও চাবাহারকে দেখা হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরান-সংক্রান্ত সমস্ত নিষেধাজ্ঞার ছাড়পত্র বাতিল করার নীতি গ্রহণ করেছে। কূটনীতির মাধ্যমে ভারত ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়াতে সক্ষম হলেও, শর্ত অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার চাপ ছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে, ভারত সরকার তাদের বার্ষিক বাজেটে প্রথমবারের মতো চাবাহারের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ করেনি, যা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চরম উত্তেজনা ভারতের সামনে একটি কঠিন সংকট সৃষ্টি করেছে। নয়াদিল্লিভিত্তিক বিশ্লেষক রাজন কুমারের মত, "সংঘাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভারতের কাছে খুব বেশি বিকল্প নেই।”
অন্যদিকে, আটলান্টিক কাউন্সিলের ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, চাবাহার এখন একটি ‘ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ’ হয়ে উঠেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি নিয়ে এই প্রকল্পে টিকে থাকা ভারতের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠবে।

চাবাহার থেকে ভারতের সম্ভাব্য পিছু হটাকে 'বৈদেশিক নীতির চরম ব্যর্থতা' বলে সমালোচনা করছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় স্বার্থের বদলে মার্কিন চাপকে প্রাধান্য দিচ্ছে মোদি সরকার।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা বিষয়টি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। তবে, চাবাহারের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, নাকি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা—এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি নয়াদিল্লির অগ্রাধিকার হবে, তার ওপর নির্ভর করছে এই বন্দরের ভবিষ্যৎ।
বিশ্বরাজনীতির প্রতি মুহূর্তের আপডেট পেতে যুক্ত থাকুন কথা২৪-এর সাথে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।